সোমবার, ৮ মে, ২০১৭

আ:লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-১২

নারায়ণগঞ্জ খবর ( রূপগঞ্জ প্রতিনিধি ) : রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের তিন দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার বিকেলে উপজেলার তারাব পৌরসভার তেতলাবো খালপাড় এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, তেতলাবো এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা ও কাদির বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদির নিজ এলাকাসহ আশ-পাশের এলাকায় সরকারী-বেসরকারী জমি জবরদখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে আসছে। পার্শবর্তী দক্ষিণ মাসাবো এলাকার কমিশনার ও আওয়ামীলীগ নেতা রাসেল শিকদারও একই কায়দায় অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে আসছে। এসব অবৈধ কর্মকান্ডের আধিপত্য নিয়ে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে রাসেল শিকদারের দীর্ঘ ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। আর ওই বিরোধের জের ধরেই বিকেলে রাসেল শিকদার বাহিনীর সদস্য আজিজুল মাতবর, সবুজ, সোহাগ, স¤্রাটসহ তাদের লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কাদির বাহিনীর সদস্য আমিন ও আক্কাসের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত মটরসাইকেল ভাংচুর করে। পরে কাদির বাহিনীর সদস্য আক্কাস, আমিন, ওসমান, ইমন, উজ্জল, আয়নাল, করিম, তাহেরসহ তাদের লোকজনও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মাঝে তিন দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আমিন, ইব্রাহীম, আক্কাস মিয়া, ফাইজুল মাতবর, উজ্জল, রহিমা, ছোয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, এ সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় এলাকার হাটবাজারের দোকানপাট। যে কোন সময় আবারোও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এর আগে, গত রোববার মধ্যে রাতে দুর্বৃত্তরা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাংচুর চালিয়ে আগুন জ¦ালিয়ে দেয়। কার্যালয় ভাংচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


রবিবার, ৭ মে, ২০১৭

এটি এম কামাল এর ৫৯ তম জন্মদিন

      
নারায়ণগঞ্জ খবর ২৪(নগর প্রতিনিধি) রবিবার ৭ মে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশবাদী মানবাধিকার সংগঠন নির্ভীক এর প্রতিষ্ঠাতা এটিএম কামাল এর ৫৯তম জন্মদিন। ১৯৫৮ সনের ৭ মে ঐতিহাসিক জনপদ প্রাচীন বাংলার রাজধানী সবুজে ঘেরা নদী বেষ্টিত সোনারগাঁ এর বারদির মসলন্দপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এটিএম কামাল এর জন্ম। বাবা মরহুম তাহের মাস্টার ও মা নারী নেত্রী শাহানা খানম চৌধুরীর জৌষ্ঠ পুত্র এটিএম কামাল। নারায়ণগঞ্জের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি কখনো আপোষ করেননি। অন্যায় আর সেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেন নিঃশঙ্ক চিত্তে। কখনও রাজপথে, কখনও শহীদ মিনারে, প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে, মিছিলে, সমাবেশে, অনশনে মাটি ও মানুষের দাবি আদায়ের সংগ্রামে অবিচল তিনি। দীর্ঘ কারাবাস, অসংখ্য মামলা ও নির্যাতনের পরেও জনগনের ন্যায্য দাবি আদায়ে থামতে না জানা এক অকুতোভয় সেনানির নাম এটিএম কামাল।

৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সোনারাগাঁয়ের সন্মানদি গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে যুদ্ধকালীন থানা কমান্ডার ও বর্তমান সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ মোল্লার (বাদশাহ্ কমান্ডার) অধীনে প্রশিক্ষন গ্রহন করেন কামাল। এরপর কমান্ডার মমিন ভূইয়া ফুলু গ্রুপের একজন সদস্য হিসেবে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কিশোর এটিএম কামাল স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন।

এটিএম কামাল সফলতার সাথে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ঐতিহ্যবাহী মহসিন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি, জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ও ফুটবল সম্পাদক এবং রহমতউল্লাহ মুসলিম ইনিস্টিটিউটের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দুবাইতে থাকাকালীন তিনি দুবাই বাংলাদেশী বিজনেস ম্যানস্ ফোরামের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) জাতীয় কমিটির সদস্য, নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কমিটি, সোনারগাঁ নাগরিক কমিটি ও নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমীর সভাপতি এবং নির্ভীকের মতো পরিবেশবান্ধব বহুল আলোচিত নাগরিক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

নারায়ণগঞ্জে এটিএম কামাল অসংখ্য সফল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর মুক্তির দাবিতে টানা ১২দিন অনশন, রাজউকের গ্রাস থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লার জমি রক্ষার দাবীতে অনশন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঢাকার মুক্তাঙ্গন থেকে পায়ে হেঁটে (সাড়ে তিনশত কিলোমিটার) সিলেট জকিগঞ্জের অমলসিদ (ভারত সীমান্ত) সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মোহনা ত্রিগঙ্গা পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং খুনীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়ার দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার অনশন, সুন্দরবন বাঁচাও-বাংলাদেশ বাঁচাও রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নাও!’’ এই স্লোগানে  রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যূৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ থেকে (৬ দিনে ২২৫ কিলোটিমার) পথ হেঁটে রামপাল ফয়লাহাট পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর এটিএম কামাল কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনে নামেন। তার যুক্তি – সরকার যে কোন সময় যে কোন বিরোধী দলীয় নেতা বা কর্মীকে গুম করে দিতে পারে। সুতরাং গুম হওয়ার জন্য কাফনের কাপড় পরে তৈরি থাকাই শ্রেয়। তার এই কাফনের কাপড় পরিধান নেতাকর্মীদের আন্দোলনের নতুন পথ দেখায়।

মানুষের বিভিন্ন দাবী নিয়ে দল-মত নির্বিশেষে নেমেছেন রাজপথে। এটিএম কামাল স্বপ্ন দেখেন একটি সুন্দর সবুজে ঘেরা পরিবেশ দূষণমুক্ত শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, ধলেশ্বরি ও বুড়িগঙ্গাবেষ্টিত নারায়ণগঞ্জের। যেখানে থাকবে না মাদক, থাকবে না সন্ত্রাস, থাকবে না কোন নোংরা রাজনীতি। সন্ত্রাসের জনপদ ও ভয়াল মুত্যুর উপত্যকার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে নারায়ণগঞ্জবাসী। অপহরন, গুম ও নৃশংস হত্যাকান্ডের স্বীকার হবে না মানুষ, থাকবে স্বাভাবিক মৃতুর গ্যারান্টি। আবালবৃদ্ধবণিতার চিত্ত বিনোদনের জন্য থাকবে বিশাল বিশাল উদ্যান ও শিশুপার্ক। থাকবে সকল নাগরিক সুবিধা, যানজটমুক্ত, পরিবেশ দূষণমুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ হবে দেশবাসীর কছে একটি মডেল। থাকবে মেডিকেল কলেজ, থাকবে ছিন্নমূল শিশু ও হকারদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প ও ভাসমান বস্তিবাসী ও নি¤œবিত্তদের জন্য স্থায়ী ঠিকানা। পাড়ায় পাড়ায় হবে পাঠাগার ও কমিউনিটি সাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। আর থাকবে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি-শুধু পরিতৃপ্তির হাসি।

শুক্রবার, ৫ মে, ২০১৭

সুকমলের উদ্যোগে নাসিম ওসমানের ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

    
নারায়ণগঞ্জ খবর ২৪(নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি) ঃশুক্রবার ৫ মে বাদ জুম্মায় গিয়াসউদ্দিন মডার্ণ একাডেমীর অডিটরিয়ামে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগ নেতা সুকমলের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ  বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ কে এম  নাসিম ওসমানের ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মিলাদ দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার  যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস টি  আলমগীর  হোসেনের  সভাপতিত্বে এবং ২১ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সামসুল হাসানের সঞ্চালনায়  প্রধান বক্তা হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা রোটারিয়ান গিয়াস উদ্দিন চেীধুরী। অন্যান্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বি.এম. ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের সদস্য মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, বন্দর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত কবির ফাহিম, মোঃ সোহাগ, সুশান্ত মোঃ রিপন,  মোঃ সানি, মোঃ আলমগীর, মোঃ রবি সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহ সিরাজ জামে মসজিদের মোয়াজ্জিম হাফেজ মোঃ আবদুর রাজ্জাক।

বুধবার, ৩ মে, ২০১৭

বসুন্ধরার ডাসযুক্ত ধুলাবালী ও শব্দ দূষন থেকে বাঁচতে চাই

নারায়ণগঞ্জ খবর২৪( বন্দর প্রতিনিধি ) : বন্দর মদনগঞ্জে বসুন্ধরা ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল কোম্পানী এখন এলাকাবাসীর কাছে মৃত্যুর ফাদে রুপান্তরিত হয়েছে। বসুন্ধরার ডাসযুক্ত ধুলাবালী ও শব্দ দূষন থেকে বাঁচতে চায় মদনগঞ্জ বাসী।

মদনগঞ্জ দূষনমুক্ত রক্ষা কমিটি নারায়ণগঞ্জ খবর ২৪ এর প্রতিবেদককে জানায়, মদনগঞ্জ বসুন্ধরা ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল কোম্পানী নাম ব্যবহার করে সিমেন্ট কোম্পানী তৈরী করে এলাকায় পরিবেশ ব্যাপক ভাবে দূষন করা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শব্দ দূষন, বায়ু দূষন ও ধুলাবালীর কারনে শিশু, যুবক-বৃদ্ধ আবাল-বনিতা সকল শ্রেণীর সকল বয়সী মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যধি দেখা দিচ্ছে। ফসলি জমিতে ফসল ফলাদী ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

অতিরিক্ত শব্দ দূষনের কারনে বিভিন্ন বসত ঘরের মেঝেতে ও দালান কোঠায় ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে। পুষ্টিহীনতায় ভূগছে শিশুরা আর নবজাতক শিশুরা শ্বাস-কষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শব্দ দূষন প্রকৃতি পরিবেশের ভারসাম্য ছিল সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই। পরিবেশের জন্যই মানুষের ভালো মন্দ নির্ভর করে। বেঁচে থাকার জন্য যে পরিবেশের প্রয়োজন, সে পরিবেশ নানা কারনে জটিল আকার ধারন করেছে। মানুষ তার আবিষ্কারের প্রতিভা, পরিশ্রম আর দক্ষতা নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা পদ্ধতি সংগ্রহ করেছে। আর মানুষ সেই গৌরবে অন্ধ হয়ে পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে। সাম্প্রতিকালে বিশ্বব্যাপী দূষনের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারন করেছে। তাই বিশ্বব্যাপী মানুষ আজ পরিবেশ দূষনের বিরূদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। আজ আমরা ধ্বংসলীলার চিতার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, সভ্যতা মানুষের কল্যানে আসে। তিল তিল করে হাজার বছরের গড়া এ সভ্যতার গতি কোন দিকে ? সৃষ্টির না ধ্বংসের ? আর তাই এ ধ্বংসের হাত থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও সুন্দর করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমরা মদনগঞ্জবাসী এই বসুন্ধরার ডাসযুক্ত ধুলাবালী ও শব্দ দূষন থেকে রেহাই পেতে চাই।
সূত্রে (নারায়ণগঞ্জ খবরে ২৪)

এই হল শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা !

নারায়ণগঞ্জ খবর২৪(নারায়ণগঞ্জ  প্রতিনিধি):যথাযোগ্য র্মযাদার সাথেই সারাদেশে পালিত হল আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। গোটা বিশ্বে সকল শ্রমজীবী মানুষের এক সংহতি প্রকাশের ঐতিহাসিক গৌরবময়  দিন ১লা মে । শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। দিন বদল হয়েছে, উন্নত  প্রযুক্তির আশীর্বাদে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। তবে দিন বদলের ছোঁয়া লাগেনি শ্রমিকদের জীবনে। তাইতো মহান শ্রমিক দিবসের এই দিনেই নির্যাতনের শিকার হতে হল এক দিন মজুর রিকশা চালককে। আর এতেই ফুটে উঠে কতটা সফল ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।

পহেলা মে সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় অকপটে গাল মন্দ করে শহরের মূল সড়কের মধ্যে এভাবেই এক রিকশা চালককে বেদম মারধর করে একজন মোটরবাইক আরোহী। এসময় মোটরবাইকটিতে চালক সহ ৩ জন আরোহী ছিল। মোটরবাইক চালক  সামনে থেকে গতিরোধ করে রিকশা আটকিয়ে দিলে পিছনের যাত্রী গাড়ীতে বসেই রিকশা চালকের র্শাট ধরে শুরু করে কিল ঘুষি। একর্পযায়ে রিকশা চালক মারছেন কেন জিজ্ঞাসা করলে আবারও গাড়ি থামিয়ে সড়কে নেমেই দ্বিতীয় দফা মারধর চালায়। তবে ওই সময়ই শতাধিক মানুষের সমাগম থাকলেও প্রতিবাদ তো দূরের কথা থামানোর জন্য এগিয়ে আসলো না কেউই। অথচ পাশেই রয়েছে একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। এবং একটু সামনে এগুলেই প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় অবস্থিত শহীদ মিনারে চলছিল শ্রমিক সংগঠনের সম্মেলন। আর এ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মোটরবাইকটি রাস্তার মাঝখানে রেখে দেওয়ায় সৃষ্টি হয় এক বিশাল যানজটের। পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকেও সাময়ীক ভোগান্তি।

এমন সময় একজন বৃদ্ধ সচেতন পথচারী বলে ফেলল বাহ এই হল শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা! তোমারটা তুমি বুঝে নাও। তিনি আরও বলেন, আজকে নাকি শ্রমিক দিবস! মাইক লাগাইয়া চিল্লাইয়া শহর গরম কইরা ফেলসে। আবার করে র‌্যালী। যে শ্রমিকদের নিয়া এতো কিছু এখানে এক শ্রমিক মাইর খায় বাচাঁনোর কেউই নাই। আর শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় কত বড় বড় কথা কয়।

এদিকে একজন সচেতন নাগরিক ও সংবাদ কর্মী হয়ে এই প্রতিবেদক তার ক্যামেরায় ছবিটা বন্ধি করে। এবং তৎক্ষনিক সেই রিকশা চালকের পাশে এগিয়ে যায় এবং মারধর করতে বাধা দেয়। মোটরবাইক আরোহীকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন দেখতাসেন না মারতাসি। অয় আমার সামনে ছিল র্হণ দিচ্ছি, সাইট দেয় নাই তাই। তখন রিকশা চালক বলে ভাই সামনেও রিকশা আর সিএনজি কেমনে যামু।

তখন প্রতিবেদক মোটরবাইক আরোহীকে বললেন আপনি ডান দিক দিয়েতো বের হতে পারতেন যেহেতু আপনার হোন্ডা। সেই পরিমান জায়গাতো ছিল। তখন প্রতি উত্তরে মোটরবাইক আরোহী বলেন, না ওরা এমনি যেখানে ইচ্ছা গাড়ি রাইখা দেয়। ওরা আইন কানুন মানে না।

তখন উত্তরে প্রতিবেদক বলেন, আপানারা একটি হোন্ডায় তিনজন বসেছেন এটা কি আইন মানা হলো? না আপনাদের মাথায় হেলমেট আছে! তাছাড়া আপনারা একটি মূল সড়ক দখল করে রেখেছেন। আর আপনি সড়কে দাড়িয়ে মারধর করছেন এটাকি আইনে পড়ে? না আইন ভঙ্গ করেছেন? এক র্পযায়ে প্রতিবেদকের উপর অনেকটা ক্ষেপে যায়। কিন্তু র্ব্যাথ হয়ে আর দেরী না করে মোটরবাইকে উঠে চলে যাওয়ার সময় আরোহী ব্যাক্তি সম্মানের সাথে প্রতিবেদককে বলে আপনাকে দেখে নিব। পিছনে ফিরে তাকালে দেখি রিকশা চালকটিও চলে যাচ্ছে, কেঁদে কেঁদে বলল যেই হাত দিয়ে মারসেন আজই দেখবেন এই হাতটা ঠিক থাকবোনা। আর বলল ভাই আপনিই খালি বাচাঁতে আইলেন।

সম্প্রতি সমগ্র বিশ্বের মত আমাদের দেশেও মে দিবস পালন করাটা শুধুই ফ্যাশন। মালিক পক্ষ হয়তো বলতে পারেন ছুটিতো পাচ্ছে। হ্যা, সরকার দিনটিকে সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ দিনটিতে রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান ও বিরোধী দলের প্রধানও বাণী দিয়ে থাকেন। শ্রম মন্ত্রণালয় আয়োাজন করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেজুর শ্রমিক সংগঠনগুলো  বর্নাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা, মহা সমাবেশ করে থাকে। হয়তো কিছু সংখ্যক শ্রমিকরা নেচে-গেয়ে কিছু সময় আনন্দ করে। সহযোগী সংগঠন বা অঙ্গ সংগঠন যে নামেই হোক, কিছু শ্রমিক সংগঠন থাকলেও সেগুলো প্রকৃত শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে কি না তা শ্রমিকরাই ভাল জানেন। এ দিনটিতে প্রচার মাধ্যমগুলোর আয়োজনও থাকে চোখে পড়ার মত। কিন্তু মে দিবসের অর্জন কতটুকু, প্রকৃত শ্রমিকরই তা অনুধাবন করতে পারছে। না জেনে গাধার মত খাটতে যতটা না কষ্ট, সুযোগের কথা জেনে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট অনেক বেশী। ফলে দেখা যায় আবারও বৈষম্য, বঞ্চনা, শোষণ প্রতিনিয়ত তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। পেটে ক্ষুধা যার, সেই বুঝে পেটের পীড়া। সে কথা লিখে কি আর বোঝানো যাবে? এমন হাজারো ঘটনা আমাদের সামনে ঘটছে। কি করণীয়, আর কি করছি, তা আমরাই ভালো জানি। কিন্তু অনুভূতি ও বিবেককে জাগ্রত করতে একটি প্রচেষ্টা মাত্র। যা একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে তুলে ধরলাম।

কারাগার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

   নারায়ণগঞ্জ খবর  ২৪ ( ডেস্ক রিপোর্ট ) : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এখনই বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি বলে ...