নারায়ণগঞ্জ খবর২৪(নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি):যথাযোগ্য র্মযাদার সাথেই সারাদেশে পালিত হল আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। গোটা বিশ্বে সকল শ্রমজীবী মানুষের এক সংহতি প্রকাশের ঐতিহাসিক গৌরবময় দিন ১লা মে । শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। দিন বদল হয়েছে, উন্নত প্রযুক্তির আশীর্বাদে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। তবে দিন বদলের ছোঁয়া লাগেনি শ্রমিকদের জীবনে। তাইতো মহান শ্রমিক দিবসের এই দিনেই নির্যাতনের শিকার হতে হল এক দিন মজুর রিকশা চালককে। আর এতেই ফুটে উঠে কতটা সফল ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।
পহেলা মে সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় অকপটে গাল মন্দ করে শহরের মূল সড়কের মধ্যে এভাবেই এক রিকশা চালককে বেদম মারধর করে একজন মোটরবাইক আরোহী। এসময় মোটরবাইকটিতে চালক সহ ৩ জন আরোহী ছিল। মোটরবাইক চালক সামনে থেকে গতিরোধ করে রিকশা আটকিয়ে দিলে পিছনের যাত্রী গাড়ীতে বসেই রিকশা চালকের র্শাট ধরে শুরু করে কিল ঘুষি। একর্পযায়ে রিকশা চালক মারছেন কেন জিজ্ঞাসা করলে আবারও গাড়ি থামিয়ে সড়কে নেমেই দ্বিতীয় দফা মারধর চালায়। তবে ওই সময়ই শতাধিক মানুষের সমাগম থাকলেও প্রতিবাদ তো দূরের কথা থামানোর জন্য এগিয়ে আসলো না কেউই। অথচ পাশেই রয়েছে একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। এবং একটু সামনে এগুলেই প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় অবস্থিত শহীদ মিনারে চলছিল শ্রমিক সংগঠনের সম্মেলন। আর এ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মোটরবাইকটি রাস্তার মাঝখানে রেখে দেওয়ায় সৃষ্টি হয় এক বিশাল যানজটের। পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকেও সাময়ীক ভোগান্তি।
এমন সময় একজন বৃদ্ধ সচেতন পথচারী বলে ফেলল বাহ এই হল শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা! তোমারটা তুমি বুঝে নাও। তিনি আরও বলেন, আজকে নাকি শ্রমিক দিবস! মাইক লাগাইয়া চিল্লাইয়া শহর গরম কইরা ফেলসে। আবার করে র্যালী। যে শ্রমিকদের নিয়া এতো কিছু এখানে এক শ্রমিক মাইর খায় বাচাঁনোর কেউই নাই। আর শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় কত বড় বড় কথা কয়।
এদিকে একজন সচেতন নাগরিক ও সংবাদ কর্মী হয়ে এই প্রতিবেদক তার ক্যামেরায় ছবিটা বন্ধি করে। এবং তৎক্ষনিক সেই রিকশা চালকের পাশে এগিয়ে যায় এবং মারধর করতে বাধা দেয়। মোটরবাইক আরোহীকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন দেখতাসেন না মারতাসি। অয় আমার সামনে ছিল র্হণ দিচ্ছি, সাইট দেয় নাই তাই। তখন রিকশা চালক বলে ভাই সামনেও রিকশা আর সিএনজি কেমনে যামু।
তখন প্রতিবেদক মোটরবাইক আরোহীকে বললেন আপনি ডান দিক দিয়েতো বের হতে পারতেন যেহেতু আপনার হোন্ডা। সেই পরিমান জায়গাতো ছিল। তখন প্রতি উত্তরে মোটরবাইক আরোহী বলেন, না ওরা এমনি যেখানে ইচ্ছা গাড়ি রাইখা দেয়। ওরা আইন কানুন মানে না।
তখন উত্তরে প্রতিবেদক বলেন, আপানারা একটি হোন্ডায় তিনজন বসেছেন এটা কি আইন মানা হলো? না আপনাদের মাথায় হেলমেট আছে! তাছাড়া আপনারা একটি মূল সড়ক দখল করে রেখেছেন। আর আপনি সড়কে দাড়িয়ে মারধর করছেন এটাকি আইনে পড়ে? না আইন ভঙ্গ করেছেন? এক র্পযায়ে প্রতিবেদকের উপর অনেকটা ক্ষেপে যায়। কিন্তু র্ব্যাথ হয়ে আর দেরী না করে মোটরবাইকে উঠে চলে যাওয়ার সময় আরোহী ব্যাক্তি সম্মানের সাথে প্রতিবেদককে বলে আপনাকে দেখে নিব। পিছনে ফিরে তাকালে দেখি রিকশা চালকটিও চলে যাচ্ছে, কেঁদে কেঁদে বলল যেই হাত দিয়ে মারসেন আজই দেখবেন এই হাতটা ঠিক থাকবোনা। আর বলল ভাই আপনিই খালি বাচাঁতে আইলেন।
সম্প্রতি সমগ্র বিশ্বের মত আমাদের দেশেও মে দিবস পালন করাটা শুধুই ফ্যাশন। মালিক পক্ষ হয়তো বলতে পারেন ছুটিতো পাচ্ছে। হ্যা, সরকার দিনটিকে সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ দিনটিতে রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান ও বিরোধী দলের প্রধানও বাণী দিয়ে থাকেন। শ্রম মন্ত্রণালয় আয়োাজন করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেজুর শ্রমিক সংগঠনগুলো বর্নাঢ্য র্যালী, আলোচনা সভা, মহা সমাবেশ করে থাকে। হয়তো কিছু সংখ্যক শ্রমিকরা নেচে-গেয়ে কিছু সময় আনন্দ করে। সহযোগী সংগঠন বা অঙ্গ সংগঠন যে নামেই হোক, কিছু শ্রমিক সংগঠন থাকলেও সেগুলো প্রকৃত শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে কি না তা শ্রমিকরাই ভাল জানেন। এ দিনটিতে প্রচার মাধ্যমগুলোর আয়োজনও থাকে চোখে পড়ার মত। কিন্তু মে দিবসের অর্জন কতটুকু, প্রকৃত শ্রমিকরই তা অনুধাবন করতে পারছে। না জেনে গাধার মত খাটতে যতটা না কষ্ট, সুযোগের কথা জেনে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট অনেক বেশী। ফলে দেখা যায় আবারও বৈষম্য, বঞ্চনা, শোষণ প্রতিনিয়ত তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। পেটে ক্ষুধা যার, সেই বুঝে পেটের পীড়া। সে কথা লিখে কি আর বোঝানো যাবে? এমন হাজারো ঘটনা আমাদের সামনে ঘটছে। কি করণীয়, আর কি করছি, তা আমরাই ভালো জানি। কিন্তু অনুভূতি ও বিবেককে জাগ্রত করতে একটি প্রচেষ্টা মাত্র। যা একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে তুলে ধরলাম।
পহেলা মে সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় অকপটে গাল মন্দ করে শহরের মূল সড়কের মধ্যে এভাবেই এক রিকশা চালককে বেদম মারধর করে একজন মোটরবাইক আরোহী। এসময় মোটরবাইকটিতে চালক সহ ৩ জন আরোহী ছিল। মোটরবাইক চালক সামনে থেকে গতিরোধ করে রিকশা আটকিয়ে দিলে পিছনের যাত্রী গাড়ীতে বসেই রিকশা চালকের র্শাট ধরে শুরু করে কিল ঘুষি। একর্পযায়ে রিকশা চালক মারছেন কেন জিজ্ঞাসা করলে আবারও গাড়ি থামিয়ে সড়কে নেমেই দ্বিতীয় দফা মারধর চালায়। তবে ওই সময়ই শতাধিক মানুষের সমাগম থাকলেও প্রতিবাদ তো দূরের কথা থামানোর জন্য এগিয়ে আসলো না কেউই। অথচ পাশেই রয়েছে একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়। এবং একটু সামনে এগুলেই প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় অবস্থিত শহীদ মিনারে চলছিল শ্রমিক সংগঠনের সম্মেলন। আর এ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মোটরবাইকটি রাস্তার মাঝখানে রেখে দেওয়ায় সৃষ্টি হয় এক বিশাল যানজটের। পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকেও সাময়ীক ভোগান্তি।
এমন সময় একজন বৃদ্ধ সচেতন পথচারী বলে ফেলল বাহ এই হল শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা! তোমারটা তুমি বুঝে নাও। তিনি আরও বলেন, আজকে নাকি শ্রমিক দিবস! মাইক লাগাইয়া চিল্লাইয়া শহর গরম কইরা ফেলসে। আবার করে র্যালী। যে শ্রমিকদের নিয়া এতো কিছু এখানে এক শ্রমিক মাইর খায় বাচাঁনোর কেউই নাই। আর শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় কত বড় বড় কথা কয়।
এদিকে একজন সচেতন নাগরিক ও সংবাদ কর্মী হয়ে এই প্রতিবেদক তার ক্যামেরায় ছবিটা বন্ধি করে। এবং তৎক্ষনিক সেই রিকশা চালকের পাশে এগিয়ে যায় এবং মারধর করতে বাধা দেয়। মোটরবাইক আরোহীকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন দেখতাসেন না মারতাসি। অয় আমার সামনে ছিল র্হণ দিচ্ছি, সাইট দেয় নাই তাই। তখন রিকশা চালক বলে ভাই সামনেও রিকশা আর সিএনজি কেমনে যামু।
তখন প্রতিবেদক মোটরবাইক আরোহীকে বললেন আপনি ডান দিক দিয়েতো বের হতে পারতেন যেহেতু আপনার হোন্ডা। সেই পরিমান জায়গাতো ছিল। তখন প্রতি উত্তরে মোটরবাইক আরোহী বলেন, না ওরা এমনি যেখানে ইচ্ছা গাড়ি রাইখা দেয়। ওরা আইন কানুন মানে না।
তখন উত্তরে প্রতিবেদক বলেন, আপানারা একটি হোন্ডায় তিনজন বসেছেন এটা কি আইন মানা হলো? না আপনাদের মাথায় হেলমেট আছে! তাছাড়া আপনারা একটি মূল সড়ক দখল করে রেখেছেন। আর আপনি সড়কে দাড়িয়ে মারধর করছেন এটাকি আইনে পড়ে? না আইন ভঙ্গ করেছেন? এক র্পযায়ে প্রতিবেদকের উপর অনেকটা ক্ষেপে যায়। কিন্তু র্ব্যাথ হয়ে আর দেরী না করে মোটরবাইকে উঠে চলে যাওয়ার সময় আরোহী ব্যাক্তি সম্মানের সাথে প্রতিবেদককে বলে আপনাকে দেখে নিব। পিছনে ফিরে তাকালে দেখি রিকশা চালকটিও চলে যাচ্ছে, কেঁদে কেঁদে বলল যেই হাত দিয়ে মারসেন আজই দেখবেন এই হাতটা ঠিক থাকবোনা। আর বলল ভাই আপনিই খালি বাচাঁতে আইলেন।
সম্প্রতি সমগ্র বিশ্বের মত আমাদের দেশেও মে দিবস পালন করাটা শুধুই ফ্যাশন। মালিক পক্ষ হয়তো বলতে পারেন ছুটিতো পাচ্ছে। হ্যা, সরকার দিনটিকে সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ দিনটিতে রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান ও বিরোধী দলের প্রধানও বাণী দিয়ে থাকেন। শ্রম মন্ত্রণালয় আয়োাজন করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেজুর শ্রমিক সংগঠনগুলো বর্নাঢ্য র্যালী, আলোচনা সভা, মহা সমাবেশ করে থাকে। হয়তো কিছু সংখ্যক শ্রমিকরা নেচে-গেয়ে কিছু সময় আনন্দ করে। সহযোগী সংগঠন বা অঙ্গ সংগঠন যে নামেই হোক, কিছু শ্রমিক সংগঠন থাকলেও সেগুলো প্রকৃত শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে কি না তা শ্রমিকরাই ভাল জানেন। এ দিনটিতে প্রচার মাধ্যমগুলোর আয়োজনও থাকে চোখে পড়ার মত। কিন্তু মে দিবসের অর্জন কতটুকু, প্রকৃত শ্রমিকরই তা অনুধাবন করতে পারছে। না জেনে গাধার মত খাটতে যতটা না কষ্ট, সুযোগের কথা জেনে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট অনেক বেশী। ফলে দেখা যায় আবারও বৈষম্য, বঞ্চনা, শোষণ প্রতিনিয়ত তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। পেটে ক্ষুধা যার, সেই বুঝে পেটের পীড়া। সে কথা লিখে কি আর বোঝানো যাবে? এমন হাজারো ঘটনা আমাদের সামনে ঘটছে। কি করণীয়, আর কি করছি, তা আমরাই ভালো জানি। কিন্তু অনুভূতি ও বিবেককে জাগ্রত করতে একটি প্রচেষ্টা মাত্র। যা একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে তুলে ধরলাম।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন